আপনার মিডিয়াকে বেছে নিন, দৈনিক সংবাদপত্রকে চিনে নিন, তাঁদের স্বার্থটা বুঝে তারপর কিনুন ।

//

swasthobandhumanbhum@gmail.com


স্বাস্থ্য একটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক বিষয়। চিকিৎসক হিসাবে কোথায় চিকিৎসকের চাকরি ভালো হবে আর কোথায় খারাপ হবে তা কখনই কোথাকার পেশেন্ট ভালো আর কোথাকার পেশেন্ট খারাপ তা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় না। তেমনি পেশেন্টের দিক দিয়ে দেখতে গেলে কোন হাসপাতালের ডাক্তার ভালো হবে আর কোথায় খারাপ হবে সেটাও ব্র‍্যান্ড ভেদে আর স্থান ভেদে আলাদা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু জোর করে ভালো ডাক্তার খারাপ ডাক্তার, ভালো পেশেন্ট খারাপ পেশেন্ট, ঠিক চিকিৎসা ভুল চিকিৎসা এই কথাগুলো বাংলার প্রথম সারির দৈনিকগুলো মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে চলেছে। যে পোস্টারগুলি নীচে দেওয়া হলো, সেগুলো কতোবার চোখে পড়ে সকলের? চিকিৎসকরা নিজেদের মধ্যে, আর ডাক্তার পেশেন্ট দুটো শিবির নিজেদের মধ্যে মারপিট করে যাচ্ছে আসলে কেন জানেন? কারণ আমাদের সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে ফিরেও তাকায় না।

এই অবহেলার জন্যই উদাহরণস্বরূপ, এই পোস্টের যে সমস্ত পাঠক আজ অসুস্থ, চাইলেই কিন্তু সহজে ১-২ ঘন্টার মধ্যে আপনার বুকে একজন ডাক্তারের স্টেথো বসবে না, সরকারি হাসপাতালে গেলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন, সারাটা দিন যাবে, আর প্রাইভেটে গেলেই ওষুধ পত্র সব মিলিয়ে সামান্য জ্বর সর্দি কাশিতেই ১২০০-১৫০০ টাকা বেরিয়ে যাবে। তার পরেও আপনি চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারবেন না।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলির নাগরিকেরা স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কিন্তু এতো অসহায় নয়। বিশ্বাস করুন কিছু সরকারি পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পেয়ে কিন্তু এর সমাধান হয়নি সেসব দেশে, “পলিটিক্স করিনা, বুঝিনা, দেখিনা শুধু পড়াশুনা করি” সেইসব ছেলেমেয়েরা কাজে আসেনি, তারা চিরকাল অশিক্ষিত মালিক শ্রেণির জন্য কাজ করে গেছে অথবা সেই মালিকেরই “পুতুল” সরকারের অধীনে চাকরি করে গেছে। এই অসহায়তা কাটাতে লেগেছে সৎ সাহস , লেগেছে জাগ্রত বিবেক, লেগেছে স্বতঃস্ফূর্ততা, লেগেছে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে সমষ্টির স্বার্থ প্রতিষ্ঠার সংকল্প। হঠাৎ কোনও সরকার এসে আকাশ থেকে এইসব বাণী ছড়ায়নি, সেই সরকার গড়ে উঠেছে জনগণের এবং ছাত্রসমাজের সেই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই।

তাই আপনার মিডিয়াকে বেছে নিন, দৈনিক সংবাদপত্রকে চিনে নিন, তাঁদের স্বার্থটা বুঝে তারপর কিনুন। তারা কিছু হাসপাতাল কোম্পানির দালালি করতে গিয়ে স্বাস্থ্যের দাবিতে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে দিচ্ছে না। আপনাদের অসহায় করে রেখে দিচ্ছে। সঠিক দাবিতে সোচ্চার হতে হবে, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের ম্যানিফেস্টো পড়তে হবে। তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দাবিদাওয়া ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিতে হবে। আমেরিকা ইউরোপের বহু উনিভার্সিটি আজ যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল। ছাত্র শিক্ষক একসাথে হচ্ছেন গ্রেপ্তার। এইরকম একটি সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের ফার্স্ট বয়দের দেশে ফার্স্ট বয়েদের চুপ থাকতে শেখানো যাবে না। প্রতিবাদের প্রতিরোধের ভাষা, ক্রিটিকাল থিংকিং প্রত্যেক ছাত্র ছাত্রীকে শেখাতে হবে।

Leave a Comment

Swasthyabandhu logo
Donate Today